জয়তু বন্ধুত্ব ।। জীবন থেকে নেওয়া -৩ ---- বনলতা বোস মোনা ।।

 জয়তু বন্ধুত্ব ।। 

#জীবন_থেকে__নেয়া ৩ ।।</strong></blockquote>


<strong>বনলতা বোস মোনা ।। </strong> 


আমরা বাঙালি , আমাদের সংস্কৃতি অনেক সমৃদ্ধ , কিন্তু কিছু কিছু সামাজিক নিয়ম সত্যিই আমাদের বিড়ম্বনার কারন , অনেকটা ভোগান্তির মতো। এরকম একটি বিড়ম্বনার নাম হোটেলে গেলে বিল কে দিবে অথবা আমাদের কে খাওয়াবে ? ? দেখা যায়  ৭-৮ জন বন্ধুর আড্ডায় যদি খাওয়া দাওয়া হয় , তাহলে দেখি এক বা দুই বন্ধু মিলে বিলটা দেয় । আমার এই জিনিসটা পছন্দ নয় । 




আমি প্রচুর বাইরে খাই বা খেতে হয় কারন এটা একটা বন্ধু বান্ধবীদের সাথে রিলাক্সেশন এর মতো । রেস্টুরেন্টে গেলাম , সেখানে গল্প গুজব করতে করতে কিছু ভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়া , আড্ডায় মেতে ওঠা , বন্ধুদের সাথে সপ্তাহান্তে বা পনের দিনে একদিন  দেখা হ ওয়া বেশ মজার ব্যাপার ।

 কিন্তু বিল নিয়ে কোন সমস্যা নেই। পাঁচ বন্ধু মিলে ব্রেকফাস্ট করতে গেলাম , যত ই বিল আসুক পাঁচ জনে সাথে সাথে ভাগ করে দেই । 

এতে দুটো জিনিস হয় ,

প্রথমত, কোন একজনের উপর লোভটা পড়ে না , কারন যে দিচ্ছে সে ও তো আমার বন্ধু । ওর উপর চাপ পড়লে আমার ও তো ভালো লাগবে না , বরং বন্ধু হিসেবে সবাই মিলে এই বিলের টাকার অংকটা  ভাগ করে নিলে বেশ ভালো লাগবে । 

দ্বিতীয়ত , একজনের উপর প্রেসার না পড়ায় বারবার আড্ডা দেবার সম্ভাবনা চলে আসে । তাছাড়া কেউ একজন বিলটা দিলে তার মনে নিশ্চিত একটু হলেও খচখচানি হয় কতটুকু গুলো টাকা বেরিয়ে গেল বলে । হয়তো বা সে পরের বার আড্ডায় আসার আমন্ত্রণ টা এড়িয়ে গেল । 

এই কাজটা কিন্তু পাঁচ জনের ফ্যামিলি বাইরে গেলেও করি , যত বিল আসবে পাঁচ ফ্যামিলি ভাগ করে দিয়ে দিবে । 

তোরা হয়তো বলবি , এটা আমাদের কালচার না । আমার কিন্তু মনে হয় বন্ধু হিসেবে বন্ধুর লোডটা ভাগাভাগি করে নেয়া উচিত। 

আরো একটা কাজ করি , 

 আর সেটা হলো এই পাচ জনের একজনের যদি জন্মদিন থাকে সেদিনও বাইরে যাই , তবে খাবার পর বার্থ ডে বয় / গার্ল ছাড়া বাকি চারজনে দিয়ে দেই , বন্ধুর জন্য ওটাই গিফট যে কিছু ভালো সময় আমাদের সাথে কাটালো , আলাদা করে গিফট কেনার ঝঞ্ঝাট নেই আর মধ্য বয়সে গিফট পেলে তেমন খুশিও হই না 😀😀😀

আসলে বন্ধুত্ব হলো পারস্পরিক মানসিকতার বোঝাপড়ার সম্পর্ক , এক দুই বন্ধুর উপর টাকা খরচা করার যে প্রেসারটা আসে সেটা আমায় পীড়া দেয় , আর বন্ধু হিসেবে বন্ধুর এই লোডটা যদি  ভাগাভাগি করে নিতে পারি , তাহলে আমার ও সুখানুভূতি হয় ।

আমি আমার বন্ধুদের সাথে নিয়মিত আড্ডা দিতে চাই , টাকা খরচা করার প্রেসারটা যেন কোন কারণে এই ঘন ঘন আড্ডার অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায় ,  তাই এই বিল পরিশোধের ভাগাভাগি প্রথা চালু আমার জীবনে ।

জয়তু বন্ধুত্ব ।। 

বনলতা বস মোনা ।। 

লেখক ।।

ক্যালিফোর্নিয়া , ইউ এস এ ।।

হ্যালো জনতার নিয়মিত লেখক।। 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবি-রবি ডাকুয়ার বিজয় দিবসের কবিতা ‘বিজয়ের জন্যে’।।

কেন আমাদের এমন মাথা নিচু ছবি দেখতে হবে ? মুসা কামাল-সম্পাদক- হ্যালো জনতা .কম ।।

তাল বা খেজুর রসের বিকল্প, গোলফল দিয়ে হতে পারে রস গুড়-রবি ডাকুয়া ।।