'প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয়’ ৩১ ' – বই পড়ার বিকল্প নেই !! # আকরাম উদ্দিন আহমেদ।।

  ## A hellojanata.comPresentation. 




প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয়’ ৩১ -
বই পড়ার বিকল্প নেই !!
# আকরাম উদ্দিন আহমেদ।

বই পড়ার বিকল্প নেই !!


"কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার
নেই মানা, মনে মনে।”

– কবিগুরু মনে মনে হারিয়ে যাওয়ার এই যে বাসনা করেছিলেন, সেজন্য দরকার প্রচণ্ড কল্পনাপ্রবণ, চিত্তচঞ্চল এক মন। আর মনের এই কল্পনালোককে জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি কার্যকর মাধ্যম হলো বই। তবে এ বই সিলেবাসের ধরাবাঁধা পাঠ্যপুস্তক নয়, বরং পাঠ্যপুস্তকের বাইরে জ্ঞানের যে মহাসমুদ্র অবিরত মানবসভ্যতাকে আহ্বান জানাচ্ছে তার জ্ঞানসমুদ্রের অতল গহ্বরে ঝাঁপিয়ে পড়ার, এ হলো সেই অমূল্য রত্নভাণ্ডার। এই রত্নভাণ্ডারের সন্ধান যে পেয়েছে এবং তার পরিপূর্ণ স্বাদ নিতে পেরেছে, জীবনবোধ ও জীবনের আনন্দ কখনোই তাকে ছেড়ে যেতে পারে না।
www. hellojanata.com


একটি ভালো বই মানুষের মনশ্চক্ষু যেমন খুলে দেয় তেমনি জ্ঞান ও বুদ্ধিকে প্রসারিত ও বিকশিত করে মনের ভিতরে আলো প্রজ্বলিত করতে সাহায্য করে।

বই-ই হচ্ছে মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ । যার সাথে পার্থিব কোনো সম্পদের তুলনা হতে পারে না । একদিন হয়তো পার্থিব সব সম্পদ বিনষ্ট হয়ে যাবে , কিন্তু একটি ভালো বই থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান কখনও নিঃশেষ হবে না , তা চিরকাল হৃদয়ে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখবে। সুতরাং জ্ঞান লাভের উৎস হিসেবে বইয়ের কোন বিকল্প হতে পারে না।

বই মানব মনে ভালোবাসার প্রেরণা যোগায়, প্রফুল্ল‍্যতার বারি সিঞ্চন করে। বইয়ের মত এত বিশ্বস্ত বন্ধু আর নেই। ঘরের কোনো আসবাবপত্র বইয়ের মতো সুন্দর নয়। বই- সে তো পুরোনো হয়না। ওমর খৈয়ামের ভাষায়-

"রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে
প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে
বই, সেতো অনন্ত যৌবনা।“
www. hellojanata.com


প্রাতঃভ্রমনে বের হলে অনেকের সাথেই অনেক রকম বিষয় নিয়ে আলাপ হয়, তবে জ্ঞানের কথা, তথা বই পড়া নিয়ে ক'জনার সাথেই বা হয়। এরই মাঝে একদিন এক যুবককে পেয়ে গেলাম। সেদিন আমরা সকলে মিলে হাঁটা দিলাম। যাব কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর তীর থেকে যাত্রাপুর, ৯ কিলোমিটার পথ। যেতে হবে পদব্রজে, সবাই দ্রুত আগেআগে হাটছে আমি আর ঐ যুবক পরে গেছি পেছনে। জুড়ে দিলাম আলাপ, জানা গেল যুবকের নাম সুমন। বই পাগল, বেশ আমুদে বয়স্কদের যথেষ্ট সম্মান করে। ওর সাথে বই পড়া নিয়ে কথা হয়। বইয়ের প্রতি ওর অনেক দূর্বলতা আছে। নিয়মিত বই কেনে এবং ওর বেশ বড়সর সংগ্রহ রয়েছে। যত্ন করে সোকেসে রেখে দিয়েছে। নিয়মিত সংগ্রহের তথ্য ফেসবুকে দেয়। কোন লেখক কি বিষয়ে লিখেছেন তাও দেয়। টিউশনির পুরো টাকাই অনেক সময় বই কেনার পেছনে খরচ করে ফেলে। টাকার সঙ্কুলান না হলে পুরোনো বই কেনে। ঢাকায় গেলে সময় পেলেই নীলক্ষেতের পুরোনো বইয়ের দোকানে ঢু'মারে। আজ কালকার দিনে ফেসবুক আর ইন্টারনেটের আগ্রাসনে যেখানে সকলের বেশীর ভাগ সময় কেড়ে নেয়, সেখানে বইয়ের প্রতি এ প্রজন্মের এ যুবকের এতো আগ্রহ, দেখেতো বেশ ভালোই লাগে।

আমার বাবারও বই পড়ার সখ ছিল। এখনো টেবিলের একটা পুরোনো সেলফে তার পছন্দের হয়তো দুএকটি বই পাওয়া যাবে। তার পছন্দের দুএকটি যেমন, শংকরের 'কত অজানারে' অবধূতের 'মরুতীর্থ হিংলাজ' সৈয়দ মুজতবা আলীর 'দেশে বিদেশে' আর জিম করবেটের শিকার কাহিনী, 'Man-Eaters of Kumaon'।
আমরা যখন ইসকুল কলেজে পড়তাম তখনতো সেল ফোন, ইন্টারনেট ছিল না। বিনোদন মানে সিনেমা দেখা, টিভি দেখা, রেডিওতে গান শোনা আর খেলাধুলা। তবে গল্পের বই পড়ার নেশা ঠিকই ছিল। ইস্কুলের লাইব্রেরী থেকে বই নিয়ে আসতাম। বেশীর ভাগই ছিল গোয়েন্দা সিরিজ যেমন, দস্যু বাহরাম, কুয়াশা, মাসুদ রানা। জুলভার্নের লেখা, পরে উপন‍্যাস পড়া  শুরু করলাম। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শংকর,  নিহার রঞ্জন , সমরেস বসু, নিমাই ভট্টাচার্য্য, সৈয়দ মুজতবা আলীর ভ্রমণ কাহিনী, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, তারাশঙ্করের লেখা। তবে একাডেমিক পড়া শেষ না হতেই চাকুরীতে ঢুকে যাওয়ায় বই পড়া আর হয়ে উঠলোনা। এখনো সময় পেলেই বইয়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে যাই। পুরোনো কোনো বইয়ের খোঁজ নেই। এখনো বই পেলেই টান দিয়ে হাতে নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখি আর হাহুতাশ করি। অনেক কিছুই অজানা রয়ে গেল। আরও যদি বেশী কিছু সময় পাওয়া যেত আরও কিছু জানা যেত।

একালের তরুনেরা ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগের সর্বগ্রাসী প্রভাবে পরে বই পড়ার সংস্কৃতি হতে দূরে সরে যাচ্ছে। পাঠাগার কমে যাচ্ছে, যেটুকু আছে তার মধ্যেও এখন হতাশাব্যঞ্জক শূন্যতা। বইয়ের দোকানও কমে যাচ্ছে। ঢাকার আজিজ সুপার মার্কেটে একসময় অনেক বইয়ের দোকান ছিল। এখন আছে হাতে গোনা কয়েকটা। কনকর্ড এম্পোরিয়াম মার্কেটেও বইয়ের দোকানের সংখ্যা ক্রমেই কমে আসছে। প্রকাশকেরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে একুশের বই মেলার দিকে।

বই মানুষকে যুক্তিবুদ্ধি জোগায়, তাকে চিন্তাশীল করে; তার ভেতরের সম্ভাবনাগুলো জাগিয়ে তোলে। কিন্তু পাঠাভ্যাস কমে যাওয়ার ফলে একটি সৃজনশীল ও মননশীল জাতি হিসেবে আমরা প্রত্যাশিত মাত্রায় বিকশিত হতে পারছি না। পরিপূর্ণভাবে বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন জ্ঞানের অবাধ ও উন্মুক্ত চর্চা। সভ্যতা ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর জন্য বই পড়ার বিকল্প নেই।

চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘শরীর সুস্থ রাখতেও বই পড়ার অভ্যাস দারুণভাবে মানুষকে সাহায্য করে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, বই পড়ার সাথে শরীর এবং মনোজগতের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। অবসাদ ও ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে হলে একটি উন্নতমানের গ্রন্থকেই বেছে নিতে হবে। বই মানুষের এক ঘেঁয়ে জীবনে আনে বৈচিত্র্য, মানুষকে দেয় স্বস্তি ও অপার্থিব শান্তি।
ফলে বই পড়লে অবশ্যই শারীরিক ও মানসিক সুফল পাওয়া যায়।

এক জীবনে আপনি সমস্ত পৃথিবী চষে বেড়াতে পারবেন না, একশত জন্মের সাধ নিতে পাবেন না কিন্তু এক হাজার বই আপনার চোখের সামনে এক হাজার জগৎ খুলে দেবে। দুঃখ,জরা, বার্ধক্য জীবনের সমস্ত ব্যথাবেদনা থেকে নিজেকে লুকানোর সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হল বই। এত সস্তার টাইম ট্রাভেল মেশিন, আপনি আর কোথায় পাবেন?

আকরাম উদ্দিন আহমেদ।
লেখক।
কুড়িগ্রাম।
০৫/০২/২০২২


লেখক  ।
কুড়িগ্রাম  ।

# জনাব আকরাম উদ্দিন আহমেদ হ্যালো জনতার নিয়মিত লেখক । 

# তাঁর সকল লেখা আমাদের ব্লগ এবং সামাজিক মাধমে প্রচারিত । www. hellojanata.com –

হ্যালো জনতার ব্লগ সাবস্ক্রাইব করুন।।
hellojanata.com ..

https://hellojanata.com/
https://hellojanata350.blogspot.com/

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবি-রবি ডাকুয়ার বিজয় দিবসের কবিতা ‘বিজয়ের জন্যে’।।

কেন আমাদের এমন মাথা নিচু ছবি দেখতে হবে ? মুসা কামাল-সম্পাদক- হ্যালো জনতা .কম ।।

তাল বা খেজুর রসের বিকল্প, গোলফল দিয়ে হতে পারে রস গুড়-রবি ডাকুয়া ।।